Food and food habit in Ramadan
রমজানে খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস
রমজান হল ইসলামিক ক্যালেন্ডারের নবম মাস, যে সময় সারা বিশ্বের মুসলমানরা এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধন করেন। রমজানের সময়, মুসলমানরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন করেন , দিনের আলোর সময় খাবার, পানীয় এবং অন্যান্য শারীরিক চাহিদা থেকে বিরত থাকেন।
যখন রমজানের সময় খাদ্যাভ্যাসের কথা আসে, তখন মুসলমানদের জন্য স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ যা তাদের সিয়াম সাধনের সময় সারাদিনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করবে ও ইবাদতের সুবিধা হবে। সেহরি এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার কারণ এটি সারা দিন সিয়াম বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। ইফতেরের পর প্রধান খাবারে যাওয়ার আগে খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভঙ্গ করা জরুরী,
যেমনটা নবী মুহাম্মদ (সাঃ) করতেন।
মুসলমানরা সাধারণত স্যুপ, খেজুর এবং শরবত সমন্বিত হালকা খাবার দিয়ে তাদের রোজা ভঙ্গ করেন। রমজানে মুসলমানদের জন্য প্রচুর ফল ও সবজি, কার্বোহাইড্রেট এবং চর্বিহীন প্রোটিন সহ একটি সুষম খাদ্য খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সাহ্রিতে কি খাবেনঃ অনেকেই সাহ্রিতে শুধু পানি পান করেই রোজা রাখেন। এটা স্বাস্থ্যকর নয়। সুস্থ থাকতে সাহ্রিতে খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাতের সঙ্গে Mixed Vegetable, ডাল, মাংস বা মাছ খাবেন। অনেকেই আমরা মনে করি, যেহেতু সারা দিন না খেয়ে থাকতে হবে, তাই সাহ্রির সময় ইচ্ছা মতন খেয়ে নেই। এটা ঠিক নয়। অতিরিক্ত খেলে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি।
ইফতারের খাবার কি হওয়া জরুরীঃ সুস্থ, স্বাস্থ্যবান থাকতে রোজাদারের জন্য ইফতারিতে খেজুর, বিশুদ্ধ শরবত, শসা, বুট, মুড়ি, কেমিক্যাল মুক্ত মৌসুমি ফল থাকা জরুরী। খাবার সহজে হজম হওয়ার জন্য ফলমূল এর বিকল্প নেই। মুখের স্বাদের জন্য অল্প করে স্বাস্থ্যকর মুখরুচক কোন খাবার খেতে পারেন। রমজানে পরিমাণমতো বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। রাতের খাবারে অভ্যাস অনুযায়ী পরিমাণমতো মাছ, ভাত, মাংস, ডাল ও সবজিই খাওয়া ভালো।
সঠিক পরিমান পানি পান করা এই সময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা ভালো।
রমজানে কি খাবেন নাঃ বদহজম হতে পারে এমন খাবার না খাওয়াই ভালো। যেমন, ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাদ্য, তেহারি ও হালিম ইত্যাদি। অ্যাসিডিটি বাড়িয়ে দেয় এমন ড্রিংক, যেমন, সোডাজাতীয় পানীয়, কার্বনেটেড ড্রিংক, এনার্জি ড্রিংক ইত্যাদি। অতিরিক্ত মিষ্টি শরবত, মিষ্টান্নজাতীয় অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই এগুলো খেতে চিনি আপনার শরীর অনুযায়ী পরিমিত করুন।
চা ও কফি শরীর থেকে অধিক পানি বের করে দেয়। তাই চা ও কফিকে এই মাসে না করে রাখি!
অতিরিক্ত লবণ ও লবণাক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।
যাঁদের সিগারেট ও .. প্রভৃতি বাজে আসক্তি আছে, তারা এগুলো……।
মুসলমানদের জন্য রমজানের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য মনে রাখা এবং আল্লাহর নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।