হিমেল
কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ আমার কাছে অত্যন্ত মর্যাদাবান একজন লেখক ৷ একাধারে উনি একজন বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। উনার লেখা আমার সব সময় ভালো লাগে ৷
একজন ইমামের অনুরোধে ওনার নিজের ইচ্ছায় উৎসাহিত হয়ে হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী নিয়ে লিখছিলেন ৷ কিন্তু কয়েক পাতা লেখার পর উনি খুব বেশি অসুস্থ হয়ে গেলেন ৷ লেখাটা শেষ পর্যন্ত অসমাপ্ত অবস্থায় রয়ে গেল ৷ উনার মর্যাদা আমার কাছে তাই আরো অনেক অনেক বেশি, আগের চেয়ে।
হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি চরিত্র হিমু ৷ হিমু সম্পর্কে আপনারা সবাই সব কিছুই মোটামুটি জানেন ৷ হিমু একজন সাধারন মানুষের মত একটি ব্যক্তিত্ব যিনি সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজে বেড়াতে থাকেন নিজের স্বাধীনচেতা মন দিয়ে ৷
মাঝে মাঝে আমি হিমুকে আমার নিজের মতো করে ভাবি ৷ হুমায়ুন আহমেদ জীবিত থাকলে উনার সাথে নিশ্চয়ই আমি আমার ভাবনাটা নিয়ে শেয়ার করতাম এবং অনুরোধ করতাম, আমার ভাবনার মত করে হিমু করা যায় কিনা? আমার এই ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে গেল!
আমার এলাকাতে একটি ছেলে আছে, যার ৮০% মোটামোটি হিমুর মতই। ছেলেটির নাম হিমেল। এই ছেলেটিকে আমি দেখতাম আর হিমুর সাথে মিলাতাম। এই হিমেলকে নিয়েই আজকে কিছু টাইপ করতে বসেছি।
তো আরম্ভ করি “হিমেল” নিয়ে কিছু কথাঃ
আজকে অনেকদিন পর হিমেলকে খালি পায়ে হাঁটতে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, “আই হিমেল, খালি পায়ে হাঁটতাছ ক্যান?”
হাসি দিয়ে হিমেলের সহজ উত্তর, “মসজিদ থেইক্কা চোর আমার জুতা চুরি করছে।”
সাথে সে যোগ করল, “জেসমিনরে কত করে কইলাম, আমারে জুতা কিনা না দিতে। আমি জুতা রাখতে পারুম না। কিন্তু হে কিনা দিবই। হুম! জেসমিনের লস হয়া গেল!”
অবশ্য হিমেল আগে খালি পায়েই হাঁটাহাঁটি করত, ঠিক হিমুর মতন ৷ এখন সে মসজিদে নামাজ আদায় করে, তাই পা খালি রাখে না৷ তবে চুরি যাওয়ার ভয়ে কম দামি স্যান্ডেলই পড়তো ৷ হিমেলের পায়ে কম দামি স্যান্ডেল দেখে জেসমিনের খারাপ লাগতো। তাই শখ করে দামি স্যান্ডেল কিনে দিয়েছিল জেসমিন। হিমেল জানে মসজিদ হল চোরদের প্রাকটিক্যাল ট্রেনিং এর জায়গা ৷ যে চোর ১০০ জোড়া জুতা মাইরবিহীন চুরি করতে পারবে, তাকে চুরির সার্টিফিকেট দেওয়া হয় এবং বড় বড় চুরিতে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয় ৷ এক সময় যখন হিমু রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াতো তখন এক চোরের সর্দারের কাছ থেকে এসব জেনেছিল ৷
হিমেল রাস্তায় “হাঁটা বাবার” মত উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটছে ও মনে মনে ভাবছে, জেসমিন কেন তাকে পছন্দ করে? জেসমিন তো অনেক ভালো চাকরি করে, গার্মেন্টসের অপারেটর। তার চেহারা ছবি যা, তাতে নিশ্চিত একজন লাইন ম্যানেজারকে বিয়ে করে ফেলতে পারবে !
চলবে…………
গল্পের পরবর্তী অংশের জন্য, সাথেই থাকুন………